সৌদিতে অন্যের ঝগড়া থামাতে গিয়ে প্রাণ গেল বাংলাদেশি খোরশেদের!
সৌদি আরবে জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করেছিলেন কুমিল্লার দেবীদ্বারের খোরশেদ আলম। পরিবারের স্বচ্ছলতা ফেরানোর পাশাপাশি নিজ এলাকায় দ্বীনি শিক্ষার প্রসারে গড়ে তুলেছিলেন একটি কওমি মাদ্রাসা।
কিন্তু প্রবাসে দীর্ঘদিনের পরিশ্রমে গড়ে তোলা স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। সৌদিতে ছুরিকাঘাতে নিহত হওয়ার পর কফিনবন্দী হয়ে দেশে ফিরলেন তিনি।
শনিবার (৭ নভেম্বর) সকাল ১০টায় দেবীদ্বার উপজেলার জাফরগঞ্জ ইউনিয়নের ভিরাল্লা গ্রামের বাড়িতে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয় খোরশেদ আলমকে। এর আগে শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁর মরদেহ বাংলাদেশে পৌঁছায়।
খোরশেদ আলম ওই গ্রামের হাজী আনছর আলীর বাড়ির মৃত হাজী নুরুল ইসলামের ছেলে। ২০০৯ সালে পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহের পর চাকরি হারিয়ে কঠিন সময়ের মুখোমুখি হন তিনি। তখন খাগড়াছড়িতে কর্মরত ছিলেন।
চাকরি হারানোর পাশাপাশি দুই বছরের বেশি সময় কারাগারেও থাকতে হয় তাঁকে। পরে জীবিকার সন্ধানে ২০১৭ সালে সৌদি আরবে পাড়ি জমান।
পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের ভাষ্য, সৌদি আরবের আভা শহরে প্রথমে একটি মসজিদের মুয়াজ্জিন হিসেবে কাজ শুরু করেন খোরশেদ। দীর্ঘদিনের পরিশ্রমে কিছু অর্থ সঞ্চয় করে সেখানে একটি লন্ড্রির দোকান প্রতিষ্ঠা করেন।
ব্যবসা থেকে উপার্জিত অর্থের একটি অংশ ব্যয় করতেন নিজ এলাকার একটি কওমি মাদ্রাসার জন্য। মাদ্রাসাটির প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি শিক্ষা উপকরণ ও অন্যান্য খরচও বহন করতেন তিনি। স্বপ্ন ছিল এলাকায় দ্বীনি শিক্ষার প্রসার ঘটানোর।
তবে গত ১১ অক্টোবর একটি বিরোধ থামাতে গিয়ে প্রাণ হারাতে হয় তাঁকে। স্বজনদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দোকানের বকেয়া টাকা আদায়কে কেন্দ্র করে তাঁর এক বাংলাদেশি কর্মচারীর সঙ্গে সুদানের দুই নাগরিকের বিরোধ ও হাতাহাতি হয়। বাংলাদেশ সময় বিকেল ৫টার দিকে খবর পেয়ে বাসা থেকে দোকানে যান খোরশেদ।
আরও পড়ুনঃ প্রবাসী হঠাৎ নিখোঁজ? কোথায় খুঁজবেন, কীভাবে সাহায্য পাবে পরিবার?
সেখানে বিরোধ মীমাংসার চেষ্টা করলে সুদানি দুই ব্যক্তি তাঁর বুকে ছুরিকাঘাত করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
পরিবারের দাবি, ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সৌদি পুলিশ অভিযুক্ত দুই ব্যক্তিকে আটক করে। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দেশটিতে বিচারিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া ও প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে শুক্রবার দেশে ফেরে খোরশেদের মরদেহ। লাশবাহী গাড়ি গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। স্বজনদের আহাজারিতে শোকের ছায়া নেমে আসে পুরো এলাকায়।
নিহতের বড় মেয়ের জামাতা নাজমুল হাসান জানান, খোরশেদের কোনো ছেলে সন্তান নেই। চার মেয়েকে নিয়ে ছিল তাঁর পরিবার। বাবাকে হারিয়ে মেয়েরা এখন অসহায় হয়ে পড়েছেন।
তিনি বলেন, বিডিআর বিদ্রোহের পর খোরশেদ বিনাদোষে চাকরি হারিয়েছিলেন এবং পরবর্তী সময়ে সরকারি কোনো সহযোগিতা পাননি। তাঁর চাকরির পেনশনের অর্থ দিয়ে সরকার যেন পরিবারটিকে সহযোগিতা করে, সেই দাবি জানান তিনি।
এদিকে, খোরশেদ আলমের মৃত্যুর বিষয়টি জানার কথা জানিয়েছেন দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান।




একটি মন্তব্য